![]()

স্পোর্টস রিপোর্টার ::
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সরকারি কার্যক্রম শুরু করেছেন আইন, বিচার ও প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পরিদর্শন করেন এবং দশটিরও বেশি ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় ড. আসিফ নজরুল বলেন, অতীতে সব ফেডারেশন সমান গুরুত্ব পায়নি। কেবল আন্তর্জাতিক সাফল্যকে ক্রীড়া উন্নয়নের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখলে চলবে না। তিনি বলেন, খেলাধুলার মধ্যে এলিটিজম থাকলে সেটি প্রকৃত অর্থে ক্রীড়া থাকে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে যেসব খেলা জনপ্রিয়, সেগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই ক্রীড়া খাতের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন বলে জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে শারীরিকভাবে সুস্থ ও মানসিকভাবে বিকশিত করতে খেলাধুলাকে যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।
সভায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দেশব্যাপী জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় জেলা পর্যায়ের ১৬ দল নিয়ে একটি সুপার লিগ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন ড. আসিফ নজরুল। এ বিষয়ে দ্রুত প্রস্তাবনা দিতে বাফুফেকে তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন তিনি। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরূন হোসেন তুষার প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে স্বল্প সময়ের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-কে গুরুত্ব দিচ্ছেন ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বিকেএসপি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। তাদের ধরে রাখার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। শিগগিরই তিনি বিকেএসপি পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান। এ সময় বাফুফে ও বিসিবি সভাপতিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্রীড়াবিদদের অবদান তুলে ধরে ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের বড় অংশ এসেছে পার্বত্য অঞ্চলের খেলোয়াড়দের হাত ধরে। সে কারণে পার্বত্য জেলাগুলোতে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগের পর ড. আসিফ নজরুল অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলাধুলাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ শুরুর তাগিদ দেন তিনি।